,

ThemesBazar.Com

‘কোচিং সেন্টারগুলো শুধু অবৈধই নয়, দুর্নীতির আখড়া’

Spread the love

নিউজ ডেস্ক : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘কোচিং সেন্টারগুলো শুধু অবৈধই নয়, দুর্নীতির আখড়া। তাই যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কোচিং বাণিজ্য চিরতরে বন্ধ করতে হবে।’

দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ-২০১৮ এর ষষ্ঠ দিনে শনিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সততা সংঘের সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বন্ধ হলে দুর্নীতি, উন্নয়নে আসবে গতি’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সংস্থাটি দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ পালন করছে।

সভাপতির বক্তব্যে দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, যেকোনো মূল্যে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কোচিং বাণিজ্য চিরতরে বন্ধ করতে হবে। আমাদের সন্তানরা সারা দিন কোচিং সেন্টারে-সেন্টারে ঘুরে বেড়াবে, তা হতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের সব কোচিং সেন্টার অবৈধ। আমরা বলতে চাই, সকল কোচিং সেন্টার শুধু অবৈধই নয়, দুর্নীতির আখড়াও। আমরা সরকার, ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবক সকলকে অনুরোধ জানাই, আসুন, এই অবৈধ এবং দুর্নীতিগ্রস্ত কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করি।

শিক্ষকদের উদ্দেশে দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনাদের সুযোগ-সুবিধা, সামাজিক মর্যাদা, বেতন বৃদ্ধিসহ সকল প্রকার উন্নয়নে দুদক আপনাদের পাশে আছি। আপনারা শ্রেণিকক্ষে এমন শিক্ষার ব্যবস্থা করুন যাতে আমাদের সন্তানদের কোচিং সেন্টারে যেতে না হয়।

তিনি বলেন, সরকার বেতন বৃদ্ধি করেছে, ঠিকই কিন্তু আমরা চাই শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, মর্যাদা আরো বৃদ্ধি করা হোক।

এক রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে যে ১১টি দেশ বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দেবে, বাংলাদেশ এদের মধ্যে একটি দেশ হিসেবে থাকার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের। প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে তাদের শক্তি, সক্ষমতা এবং সামর্থ্য অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন , বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মকে মানবসম্পদে পরিণত করে জনতাত্ত্বিক লভ্যাংশ পেতে হলে অন্যান্য অনুষঙ্গের সাথে গুণগত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

এ প্রসঙ্গে তিনি সততা সংঘের সদস্যসহ সব ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা এ প্লাস কিংবা ফলাফলের পিছনে না ছুটে পরিপূর্ণ এবং নির্মোহভাবে জ্ঞান অর্জনে মনোনিবেশ করো। তোমরাই হবে দেশের সবচেয়ে দক্ষ, সক্ষম এবং সামর্থ্যবান অমূল্য মানবসম্পদ।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা বিস্তারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই দুদক চেয়ারম্যান সততা সংঘের সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।

তিনি সততা সংঘের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভবিষ্যতে দুদকের কার্যক্রম সততা সংঘের সদস্যদের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।

উল্লেখ্য, দুর্নীতি দমন কমিশন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সততা, নিষ্ঠাবোধ ও চারিত্রিক দৃঢ়তা সৃষ্টি করা,  দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা সৃষ্টি করা এবং সর্বোপরি গণসচেতনতা গড়ে তোলার কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে দেশের স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস এবং প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রায় ২৫ হাজার সততা সংঘ গঠন করেছে।

কমিশন সীমিত আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে সততা সংঘের সদস্যদের নিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির তত্ত্বাবধানে বছরব্যাপী উপজেলা, জেলা ও শহরগুলোতে দুর্নীতিবিরোধী এবং উত্তম চর্চার বিকাশে মানববন্ধন, পদযাত্রা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা, নাটক, বিতর্ক, কার্টুন ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দুদক সততা সংঘের সদস্যদের মাঝে বিভিন্ন সুবচনসংবলিত শিক্ষা উপকরণ যেমন: খাতা, স্কেল, জ্যামিতি বক্স ইত্যাদি দিচ্ছে। দুদক দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে আগামী প্রজন্ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

সমাবেশে দুদকের কমিশনার ড. নারিউদ্দীন আহমেদ বলেন, কোচিং বাণিজ্য বন্ধে অসহায়ত্বের কোনো সুযোগ নেই।

কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, সততা শিক্ষা যদি আমরা পরিবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দিতে পারি তা হলে অদূর ভবিষ্যতে দেশে দুর্নীতিবাজ তথা অসৎ মানুষ থাকবে না, থাকলেও সমাজে তাদের কোনো প্রভাব থাকবে না।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদকের সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন ও মহাপরিচালক মো. জাফর ইকবাল প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email

ThemesBazar.Com

      আরো পড়ুন