,

ThemesBazar.Com

জাল সনদে ভেজাল শিক্ষক, সেই নোবেলের গোমর ফাঁস

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক•পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলাধীন চর কাজল মাধ্যমিক বিদ্যলয়ের সহকারী  শিক্ষক জনাব সাব্বির আহমেদ নোবেল গত ০৭-০৯-১৩ইং তারিখে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এমপিওভূক্তির নিমিত্তে আবেদন করে এমপিওভূক্তি হয়েছেন। আবেদনকারীর কাগজ পত্র অনুসন্ধানে পাওয়া যায় তিনি ০৬-০৯-১৩ইং তারিখ সাক্ষাতকার বোর্ডে দারূল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনএস সেন্টার, (১৩ তম) ফ্লোর, প্লট #৮৭, ঢাকা, ময়মনসিংহ  রোড, সেক্টর#৭, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ শাখা থেকে অর্জিত  স্নাতক (সম্মান) সনদটি দাখিল করেছেন, যাহার সিরিয়াল নং-১৫০৬ (সনদটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন) । তৎকালীন স্মারক নং-চকামাবি-১০৩, তারিখ- ০৮-০৯-১৩ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত মো.ফখরউদ্দিন সাব্বির আহম্মেদ নোবেলের এমপিওভূক্তির নিমিত্তে জেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের মাধ্যমে আবেদন করেন (আবেদন কপি দেখতে এখানে ক্লিক করুন) । তাতে লক্ষ্য করা যায় উল্লেখিত শাখা থেকে অর্জিত সনদটি দাখিল করেছেন। আবেদন খানা লক্ষ্য করে দেখা যায় প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল। ঐ আবেদনে দাখিলকৃত কাগজপত্রের প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ের স্মারক নং-জেপিঅ/পটু/১০৬৬, তারিখ ২৯-০৯-১৩ খ্রিস্টাব্দে মোতাবেক পরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ, ঢাকা বরাবর সাব্বির আহম্মেদ নোবেল এর নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রেরণ করেন। সেক্ষেত্রেও দেখা যায় দারুল ইহসানের উত্তরা বিএনএস শাখা থেকে অর্জিত  মার্কশীট সহ সনদ যাহার সিরিয়াল নং ১৫০৬।

দারুল  ইহসানের উত্তরা ক্যাম্পাসটি সম্পর্কে  সুস্পষ্ট ০৬  মে ২০১৬  জাতীয় সংসদের  প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদীর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ  বলেন, দেশের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়কে অবৈধ ঘোষণা করা হয়নি। তবে বেআইনিভাবে স্থাপিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আউটার ক্যাম্পাস অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে আদালতের রায় নিয়ে দারুল ইহসান বিশ্ববিদালয়ের ২৯টি, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির ২টি, ইবাইস ইউনিভার্সিটির ২টি, আন্তজার্তিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ৬টি এবং আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ১৬টি ক্যাম্পাস পরিচালিত হচ্ছে। আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় অবৈধ ক্যাম্পাসগুলোকে উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। তবে এ ব্যাপারে আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি ২টি আউটার ক্যাম্পাস বন্ধের বিষয়ে আদালতের ‍রায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুকূলে এসেছে। 
ওই সংসদ সদস্যের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দারুল ইহসান উত্তরা বিএনএস সেন্টার ক্যাম্পাস বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত নয়। (অনুমোদনহীন ক্যাম্পাসের সনদ বৈধ নয়: শিক্ষামন্ত্রী)   ওই ক্যাম্পাসটি উচ্ছেদ করার জন্য জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিটিআরসির মাধ্যমে তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে। মঞ্জুরি কমিশন থেকে অবৈধ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ভর্তি না হওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

সাব্বির আহম্মেদ ১৩ অক্টোবর ২০১৩ দৈনিক সমকাল পত্রিকার এক বিজ্ঞপ্তি মারফত ২৬ অক্টোবর ২০১৩ইং তারিখ হাজী কে আলী কলেজের অধ্যক্ষ্য বরাবর একখানা আবেদন করেছেন। সেক্ষেত্রেও দারুল  ইহসানের উত্তরার বিএনএস  শাখা থেকে অর্জিত সনদটি (যাহার সিরিয়াল নং -১৫০৬) দাখিল করেছেন ( আবেদন কপি দেখতে এখানে ক্লিক করুন) । মাউশি’র স্মারক নং ও এম-৮২-ম/২০১৩/১৯৯/৪; তারিখ ২১-০১-২০১৪ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক সাব্বির আহম্মেদ নোবেল এর এমপিও ভূক্তির একখানা নামঞ্জুরপত্র প্রধান শিক্ষকের নিকট প্রেরণ করেন। উক্ত পত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত শাখা থেকে স্নাতক  (সম্মান) সনদ অর্জন না করা (নামঞ্জুরপত্র দেখতে এখানে ক্লিক করুন)

পরবর্তীতে ১৫-০২-১৪ইং তারিখে প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ ফখরউদ্দিন মাউশি’র  মহাপরিচালক বরাবরে সাব্বির আহম্মেদ নোবেল এমপিওভূক্ত করনের নিমিত্তে একখানা  আবেদন করেছেন। সেক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় প্রধান শিক্ষকের দাখিলকৃত কাগজপত্রে হাউজ নম্বর# ২১, রোড নং-৯/এ, ধানমন্ডি আর/এ, ঢাকা-১২০৯ বাংলাদেশ শাখা সনদটি সংযুক্ত করা হয়েছে ( সনদটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন)। কিন্তু জেলা শিক্ষা অফিসারের স্মারক সংখ্যা জেশিঅ/ পটু/১৬৪; তারিখ ১৬-০২-১৪ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক সাব্বির আহম্মেদ নোবেল এর  এমপিওভূক্তির জন্য কিছু কাগজপত্র প্রেরণ সম্পর্কিত অগ্রয়ন পত্রে রুহুল আমিন খান, জেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের স্বাক্ষর সেহেতু দাখিলকৃত সনদটিতে সুকুমার চন্দ্র হালদারের স্বাক্ষর হবে কি করে?  দাখিলকৃত সনদটিতে সত্যিকার সুকুমার চন্দ্র হালদার, জেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয় ও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর কি?

(রুহুল আমিন খান, জেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের স্বাক্ষর করা কাগজ এখানে দেখুন ও সুকুমার চন্দ্র হালদারের স্বাক্ষর জেলা শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের স্বাক্ষর করা কাগজ এখানে দেখুন)

যেহেতু সাব্বির আহম্মেদ নোবেল নিয়োগপত্র গ্রহণ করেছেন দারুল  ইহসানের উত্তরা  বিএনএস সেন্টারের সনদটি দাখিল করে সেক্ষেত্রে ধানমন্ডি ক্যাম্পাসের সনদটি ধারা এমপিওভূক্তি হয়  কিভাবে? (দুই ক্যাম্পাসের দুইটি সনদ  দেখুন  এখানে এখানে ) হয়ে থাকলেও বিধি বহির্ভূত ভাবে এমপিওভূক্তি কিনা? এ প্রশ্ন এখন চর কাজল  ইউনিয়নের সর্বস্তরের সচেতন জনগণের মুখে মুখে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের জ্ঞাতার্থে একজন শিক্ষার্থী সেপ্টেম্বর -২০১৩ থেকে ফেব্রুয়ারি -২০১৪ এ মাসের মধ্যে ধানমন্ডি ক্যাম্পাসের  উল্লেখিত সনদটি অর্থাৎ দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, ধানমন্ডি শাখা থেকে অর্জন করে কিভাবে? একজন শিক্ষার্থী কিভাবে দুটি স্নাতক (সম্মান) সনদ অর্জন করে? এ ব্যাপারে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক জনাব মো. ফখরউদ্দিনের নিকট প্রশ্ন করলে সে জবাব দেয় সাব্বির  আহম্মেদ নিয়োগ ও এমপিওভূক্তির ক্ষেত্রে দারুল  ইহসানের উত্তরা বিএনএস সেন্টারের শাখা থেকে অর্জিত সনদটি দাখিল  করেছেন।

এ ব্যাপারে বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে সাব্বির আহম্মেদ নোবেলের নিয়োগটি আমি প্রধান শিক্ষক থাকা কালীন হয়নি বলে বিষয়টি তিনি  এড়িয়ে যান।

এ ব্যাপারে সাব্বির আহম্মেদ নোবেলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায় নি।

Print Friendly, PDF & Email

ThemesBazar.Com

      আরো পড়ুন