,

ThemesBazar.Com

কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে শি জিনপিং রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে প্রস্তুত চীন

Spread the love

কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে শি জিনপিং

রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে প্রস্তুত চীন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, বিশ্বে নিজেদের যথাযোগ্য স্থান পাকাপোক্ত করে নেবে চীন। এ লক্ষ্যে শত্র“দের সঙ্গে ‘রক্তক্ষয়ী লড়াই’ চালাতেও প্রস্তুত তার দেশ। চীনকে বিভাজনের যেকোনো চেষ্টার পরিণাম ভালো হবে না বলে সতর্ক করেছেন তিনি। চীনকে উদীয়মান বিশ্বশক্তি হিসেবে তুলে ধরে মঙ্গলবার ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। জিনপিং বলেন, ‘পরিপূর্ণ ঐক্য অর্জনই চীনের জনগণের একমাত্র প্রত্যাশা। চীনের ভূখণ্ড বিভাজনের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়া হবে।’ জিনপিংয়ের এ কঠোর হুশিয়ারি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তাইওয়ান ও হংকংয়ের বিচ্ছিন্নবাদিতার চেষ্টার বিরুদ্ধে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর বিবিসি, রয়টার্সের।

সম্প্রতি সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে আজীবন ক্ষমতার অধিকারী হয়েছেন জিনপিং। চীনের পিপলস পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ধারিত দুই মেয়াদের অবসান ঘটানোর মধ্য দিয়ে তার আজীবন ক্ষমতায় থাকার সুযোগ তৈরি হয়। এই সংশোধনীর কারণে তিনি একইসঙ্গে আজীবন পার্টি ও সামরিক বাহিনীর প্রধান থাকবেন। মঙ্গলবার ছিল ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনের সমাপনী দিন। চীনের গ্রেট হলে ৩০০০ প্রতিনিধির সামনে দেয়া ভাষণে হুশিয়ারি দিয়ে জিনপিং বলেন, ‘এক চীন নীতি’র সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বেইজিং। তাইওয়ানকে হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো বিচ্ছিন্নবাদী তৎপরতার জন্য ‘ঐতিহাসিক শাস্তি’ পেতে হবে তাইওয়ানকে। এই ‘এক চীন নীতি’র আওতায় স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে চীন।

জিনপিং ২০১৩ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক তিনি। সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই তিনি চীনের ইতিহাসে ধারাবাহিকভাবে আÍপ্রত্যয়ী ও নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ববাদী একটি যুগের সূচনা করেছেন। পরাক্রমশালী দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে চীনের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে তিনিই এখন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সমাজতন্ত্রের মূলমন্ত্রে চীনকে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। আধুনিক চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুংয়ের পর তাকেই চীনের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চীনের রাজনীতিতে নিজের দল চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সমাজতন্ত্রের মূলতন্ত্রেই চলবে চীন। সমাজতন্ত্রই দেশকে উন্নতির পথ দেখিয়েছে। ইতিহাস প্রমাণ করেছে, একমাত্র সমাজতন্ত্রই চীনের সুরক্ষা দিতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, নিজেদের এ সমৃদ্ধি নিয়ে আÍতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। চীনের অগ্রগতিতে ‘জনগণই সত্যিকারের নায়ক’ মন্তব্য করে তিনি সাধারণ জনগণের স্বার্থে রাজনীতিবিদদের কঠোর পরিশ্রম করারও আহ্বান জানান।

Print Friendly, PDF & Email

ThemesBazar.Com

      আরো পড়ুন