,

ThemesBazar.Com

শাবাশ জাফর ইকবাল এদেশ অবাক তাকিয়ে রয়

Spread the love
কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তেতাল্লিশের মš^ন্তরে ঘুরে দাঁড়ানো বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ে লিখেছিলেন তার অমর পঙ্ক্তি : ‘সাবাশ বাংলাদেশ/ এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়/ জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার/ তবু মাথা নোয়াবার নয়।’ ইতিহাসের কালপর্বজুড়ে এ ভ‚মির মানুষ যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, ঝড়, বন্যা, রাজনৈতিক-সামাজিক মাৎস্যন্যায় বুক চিতিয়ে মোকাবেলা করে প্রমিথিউসের মতো বারবার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, বাউল, বৈষ্ণব, সহজিয়া এই ভ‚মির মানুষরা চরম শত্রুকেও হাসিমুখে ক্ষমা করে দিয়েছে। এটাই বাংলার প্রাণশক্তি।
আবার সেই নজির দেখালেন ড. জাফর ইকবাল। জঙ্গি ঘাতকের ধারাল ছুরি মাত্র কয়েকদিন আগে ক্ষতবিক্ষত করেছে তাকে। মৃত্যুকে দেখে এসেছেন খুব কাছ থেকে। তবু জীবনের কী অনন্য জয়গান তার কণ্ঠে। হাসপাতাল ছাড়লেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ তাকে বলা যাবে না। মাথা, ঘাড়, পিঠ, হাতে ছয়টি ক্ষতে সেলাই পড়েছিল ২৮টি। সেই মানুষটিই আক্রান্ত হওয়ার ১১ দিন পর হাসপাতাল ছেড়ে প্রিয় ক্যাম্পাসে গিয়ে সেই মুক্তমঞ্চে আবার দাঁড়ালেন। পৃথিবীর প্রতি, জীবনের প্রতি, মানুষের প্রতি অগাধ, অপার ভালোবাসার কথা বারেবারে জানালেন। প্রিয় ক্যাম্পাস, প্রিয় সহকর্মী, প্রিয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে মেতে রইলেন অনেকটা সময়। সারাক্ষণই দেবদূতের মতো সরল হাসি মুখের কোণে তার। পথভ্রষ্ট যে ঘাতক তাকে হত্যা করতে ছুরি চালিয়েছিল তার প্রতিও তার মমতার কমতি ছিল না তিল পরিমাণ। এমন এক বাংলাদেশ নির্মাণের কথা তিনি বললেন, যেখানে ফয়জুলদের মতো কেউ যেন আর সৃষ্টি না হয়।
জাফর ইকবালের প্রত্যাশিত বাংলাদেশই তো আবহমান বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশই একুশেতেই দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া কবি সুকান্তের সাবাশ বাংলাদেশ। সাবাশ জাফর ইকবাল।
চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পেয়ে গত পরশু (বুধবার) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আসেন তিনি। একদিন থেকেই ফিরেছেন ঢাকায়। গতকাল দুপুরে ক্যাম্পাস ছাড়ার আগে জাফর ইকবাল আবারও কৃতজ্ঞতা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। হামলার পর তার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার যে ভালোবাসা দেখিয়েছে তা কখনো ভোলার নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেভাবে আমার ওপর হামলা হয়েছে তাতে খুব সহজে বেঁচে আসার কথা ছিল না। অসংখ্য মানুষের দোয়ার কারণেই আমি বেঁচেছি। ক্যাম্পাসে ফেরার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা আমাকে অনেক চিঠি দিয়েছে। আমি সেগুলো পড়েছি। তাদের সেই ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়া আমার পক্ষে কোনোদিনও সম্ভব হবে না। যেহেতু আমি নতুন জীবন পেয়েছি, তাই জীবনের বাকি সময়ে আমি যাতে ছেলেমেয়েদের জন্য ভালো কিছু করতে পারি সে শক্তি ও সুযোগ যেন আল্লাহ আমাকে দেন।
ড. জাফর ইকবাল বলেন, এ দেশের জন্য অনেক মানুষ প্রাণ দিয়েছে। আমাদের দেশটা খুব সুন্দর। ওরা (নতুন প্রজন্ম) দেশটাকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসুক, দেখবে দেশও ওদের ভালোবাসবে।
এ বছরের অক্টোবরে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার কথা জাফর ইকবালের। কিন্তু এরই মধ্যে শাবি ক্যাম্পাস ছেড়ে না যাওয়ার দাবি তুলেছেন শিক্ষার্থীরা এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জাফর ইকবাল বলেন, অফিশিয়ালি আমার রিটায়ারমেন্ট হয়ে গেলেও এটা আমার ইউনিভার্সিটি। এখানে এলে কখনই মনে হবে না আমি অন্য কোথাও এসেছি। তাই অফিশিয়ালি আমি আছি কি-না সেটা বিষয় নয়, এটা আমার ইউনিভার্সিটি এবং আমৃত্যু এটা আমার ইউনিভার্সিটি থাকবে।
Print Friendly, PDF & Email

ThemesBazar.Com

      আরো পড়ুন