ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্ত ভৌগোলিকভাবেই ত্রিভুবন অভিশপ্ত বিমানবন্দর

ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্ত ভৌগোলিকভাবেই ত্রিভুবন অভিশপ্ত বিমানবন্দর

মার্চ ১৪, ২০১৮ 0 By admin
Spread the love

 ডেস্ক রিপোর্টঃ

খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনেকটা নিচে নেমে রানওয়েতে পৌঁছাতে হয় * চারদিকে পাহাড়বেষ্টিত রানওয়ে * রানওয়ের বাঁ-দিকে সমতল ভূমি থাকলেও ডান দিকে গভীর খাদ * ১৯৭২ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ৭০টি বিমান দুর্ঘটনায় পড়েছে

নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ভৌগোলিকভাবেই অভিশপ্ত। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে চারদিকে পাহাড়বেষ্টিত ছোট এলাকায় বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণে বিমান চালকদের বেশ বেগ পেতে হয়। ১৯৭২ সালে বন্দরটিতে নিয়মিত বিমান চলাচল শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৭০টি বিমান দুর্ঘটনায় পড়েছে। বিবিসির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমডোর ইকবাল হোসেন। এবিসি নিউজের কাছে ত্রিভুবন বিমানবন্দরের প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থানের কথা স্বীকার করেছেন নেপাল টেলিভিশনের এক উচ্চপদস্থ সংবাদকর্মী।

ইকবাল হোসেন বলেন, রানওয়ের এক প্রান্তে রয়েছে পাহাড়। ফলে অবতরণের সময় প্রতিটি বিমানকে খুব সতর্ক হয়ে পাহাড় এড়িয়ে বিমানবন্দরের কাছে পৌঁছাতে হয়। আর তার পরে খুব অল্প সময়ের ভেতর অনেকটা নিচে নেমে আসতে হয় রানওয়েতে পৌঁছাতে। বিমান চালকদের জন্য তা অনেকটাই কষ্টসাধ্য। আবার রানওয়ের বাঁ-দিকে কিছুটা সমতল ভূমি থাকলেও ডান দিকে গভীর খাদ। ফলে বিমান যদি পিছলে যায়, তাহলে তা ওই খাদে পড়ে যাওয়ার বড় সম্ভাবনা থাকে।

এবিসিকে নেপাল টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক দেবেন্দ্র সুবেদি বলেন, একে তো বিমানবন্দরটির ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূমিরূপ বিমান অবতরণের জন্য প্রতিকূল। তারপর ইউএস-বাংলা খুব বেশিদিন ধরে নেপালে আসা-যাওয়া করছে না। কোন দিক থেকে অবতরণ করা হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে একটি মাত্র রানওয়েকেই কখনও ‘রানওয়ে ০২’ আর কখনও ‘রানওয়ে ২০’ নামে ডাকা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেপালের বিমানবন্দরের একটি সূত্র বলেছে, উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণকারীদের রেকর্ড করা কথোপকথন থেকে বিমান চালক ও নিয়ন্ত্রণকারীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার কথা জানা গেছে।

নেপালে নিয়মিত বিমান চলাচল শুরু হওয়ার কিছুদিন পরই একটি দুর্ঘটনা ঘটে ১৯৭২ সালের মে মাসে। থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমান অবতরণ করার সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। এতে একজন নিহত হন। ১৯৯২ সালে থাই এয়ারওয়েজের একটি এয়ারবাস অবতরণ করার জন্যে বিমানবন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় একটি পাহাড়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে ১১৩ জন যাত্রীর সবাই নিহত হন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে আরেকটি বিমান বিধ্বস্ত হলে ১৬৭ জন যাত্রীর সবাই প্রাণ হারান।

১৯৯৫ সালে রয়্যাল নেপাল এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বেষ্টনী ভেঙে মাঠের ভেতরে ঢুকে যায়। এতে দু’জন নিহত হন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে নেকন এয়ারের একটি বিমান ত্রিভুবন বিমানবন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় একটি টাওয়ারের সঙ্গে সংঘর্ষে কাঠমান্ডু থেকে ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে একটি অরণ্যে বিধ্বস্ত হয়। এতে ১০ যাত্রী ও ৫ ক্রুর সবাই নিহত হন।

২০১১ সালে বুদ্ধ এয়ারের একটি বিমান বিমানবন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় দুর্ঘটনায় ১৯ আরোহীর মধ্যে একজন শুরুতে প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হলেও পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় মারা যান। বলা হয়, খারাপ আবহাওয়া ও নিচুতে থাকা মেঘের কারণে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৫ সালে তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ঘন কুয়াশার মধ্যে নামতে গিয়ে সমস্যার মধ্যে পড়ে। ৩০ মিনিট ধরে এটি বিমানবন্দরের ওপর উড়তে থাকে। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় নামতে পারলেও সেটি রানওয়ের থেকে ছিটকে চলে যায়। ২২৭ জন যাত্রীকে সেখান থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। ২০১৭ সালের মে মাসে সামিট এয়ারলাইন্সের একটি বিমানও বিধ্বস্ত হয়।

এই সম্পর্কীও খবর

Recent Posts