যৌন নিপীড়নের ঘটনা প্রকাশ করছে ইরানি মেয়েরাও

যৌন নিপীড়নের ঘটনা প্রকাশ করছে ইরানি মেয়েরাও

জুনe ৬, ২০১৮ 0 By admin
Spread the love

মেয়েদের ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনা বাইরে বলা ইরানে এক রকম ‘ট্যাবু’। তবে সম্প্রতি বিষয়টি বেশ আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে রাজধানী তেহরানে ছেলেদের একটি স্কুলে এক ব্যক্তি ডজনেরও বেশি শিক্ষার্থীকে নিপীড়ন করার পর এ নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ওই ব্যক্তি শিক্ষর্থীদের প্রথমে অ্যালকোহল সেবন করান। তারপর তাদের পর্নোগ্রাফি দেখান এবং জোর করে যৌন নিপীড়ন করেন। এই ঘটনার পরপরই পুরনো ঘটনাগুলোও আলোচনায় আসে। ইরানিরা এরইমধ্যে সামাজিকমাধ্যমে ‘মি টু’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে নিজেদের যৌন নিপীড়নের ঘটনা জানাতে শুরু করেছে। এ নিয়ে প্রকাশ্যে স্বীকারোক্তিও দিচ্ছে তারা।

এবার ব্যতিক্রম যে ঘটনাটা ঘটেছে তা হচ্ছে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি অপরাধীকে সাজা দিতে ব্যক্তিগতভাবে আহ্বান জানিয়েছেন। অনেকে মনে করছেন, পুরনো একটি ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে খামেনি তার এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

গত বছর খামেনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আছে, এমন এক ধর্মীয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। ওই শিক্ষক এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও এ নিয়ে ইরানজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অভিযুক্ত শিক্ষকদে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তবে এতে সন্তুষ্ট নয় ইরানিদের একটি অংশ। দেশটির এক সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, মামলার রায়ে খামেনির এক সহযোগী হস্তক্ষেপ করেছেন।

‘মসজিদ মি টু’ হ্যাশট্যাগ

তবে এই প্রথমই ইরানিরা নারী ‘মি টু’ হ্যাশট্যাগ দিচ্ছে না। এর আগে দেশটির সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারীরা হলিউড নির্মাতা হার্ভে ওয়েনস্টেইনের যৌন নিপীড়নের ঘটনা ফাঁস হওয়ার সময় ‘মস্ক মি টু’ (মসজিদ মি টু) হ্যাশট্যাগ দিয়ে যৌন নিপীড়নবিরোধী সতর্কতামূলক অভিযান শুরু করে। যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা ও হজের খোতবায় সচেতনতা সৃষ্টির দাবি জানান তারা।

এক পুরুষ টুইটারে লিখেছেন, ‘আমি মাধ্যমিক স্কুলে থাকার সময় আমাদের হেডমাস্টার আমাকে তার বাড়ি নিয়ে নিপীড়ন করে। আমি বিষয়টি বাবাকে বলতে ভয় পাচ্ছিলাম। আরেকবার গাড়িতে একই ঘটনা ঘটেছিল।’ আরেক ইরানি ছেলে টুইটারে জানিয়েছেন, তিনি এক মেয়েকে অন্যায্যভাবে স্পর্শ করেছিলেন। এজন্য ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

এলি নামের এক নারী জানিয়েছেন, সাত থেকে ১৬ বছর বয়সের মধ্যে তিনি তার মা-বাবার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির হাতে নিয়মিত যৌন নিপীড়নের শিকার হতেন। তবে তা কারো কাছে বলার মতো সাহস করে উঠতে পারেননি তিনি। এখন অবশ্য এলি ওই ঘটনা প্রকাশ না করাকে নিজের ভুল মনে করেন।

ব্রেকিংনিউজ

এই সম্পর্কীও খবর

Recent Posts