,

ThemesBazar.Com

তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার, নতুন বিতর্ক

Spread the love

আইনজীবীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার আদালতের আদেশ লঙ্ঘন। আবার কেউ কেউ বলছেন, বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।

ডেস্ক নিউজ:: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আইনের দৃষ্টিতে পলাতক। এ অবস্থায় তার কোনো বক্তব্য যেকোনো মাধ্যমে প্রচারের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও তার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের কথিত কথোপকথনের একটি অডিও প্রচারিত হয়েছে। এটি কতটুকু আইনসঙ্গত তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার নিষিদ্ধ করতে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ সব ধরনের মিডিয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী নাসরীন সিদ্দিকী লিনার করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই আদেশ দেন। শুধু তাই নয়, ফিউজিটিভ (পলাতক) থাকা অবস্থায় থাকা তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার ও প্রকাশ নিষিদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবের প্রতি আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

কথিত অডিওর বক্তব্য নিয়ে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সাবেক বিচারক ও সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছে প্রিয়.কম। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার করে সংশ্লিষ্ট মিডিয়া আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করেছে। আবার কেউ বলেছেন, তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।

সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সাবেক জেলা জজ ইকতেদার আহমেদপ্রিয়.কমকে বলেন, ‘তারেক রহমানের বক্তব্য যদি সংবিধানের ৩৯ (২) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তাহলে এটি প্রচারে সমস্যা নেই।’

সংবিধানের ৩৯ (২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচণা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে (ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং (খ) সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।’

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবিএম নুরুল ইসলামপ্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমি আদালতের আদেশের বিষয়টি দেখিনি, শুনেছি।  যদি তারেক রহমানের বক্তব্য মিডিয়ায় প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকে তারপরেও সেটি প্রচার করা হয়, তাহলে আদালতের আদেশ ভায়োলেশন (লঙ্ঘন) করা হয়েছে।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের নেতা বশির আহমেদ প্রিয়.কমকে বলেন, ‘তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামি। তিনি ফিউজিটিভ (পলাতক) রয়েছেন। তারেক রহমান আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করলে বোঝা যাবে তিনি ফিউজিটিভ (পলাতক) নন।’

বশির আহমেদ বলেন, ‘হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও যেসব পত্রিকা বা অনলাইন নিউজ পোর্টাল তারেক রহমানের বক্তব্য দিয়ে নিউজ করেছে, যেসব মিডিয়া প্রচার করেছে তারা সুস্পষ্টভাবে আদালতের আদেশ ভায়োলেশন (লঙ্ঘন) করেছে।’

এ বিষয়ে তারেক রহমানের আইনজীবী ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমার মনে হয়, আদালত তারেক রহমানের রাজনৈতিক বক্তব্য মিডিয়াতে প্রচার করতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারি চাকুরিতে কোটা সংস্কার নিয়ে ছাত্রদের আন্দোলনের বিষয়ে তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সঙ্গে যে কথপোকথন করেছেন সেটি রাজনৈতিক না।’

কায়সার কামাল আরও বলেন, ‘তারেক রহমান বাংলাদেশের একজন নাগরিক এবং বৃহত্তর একটি রাজনৈতিক দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। কোটা সংস্কার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মামুন আহমেদের সঙ্গে তারেক রহমানের কথোপকথন প্রমাণ করে তিনি (তারেক রহমান) ও তার দল দেশের জনগণের পক্ষে।’

তারেক রহমানের আরেক আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া প্রিয়.কমকে বলেন, ‘তারাই (আওয়ামী লীগ) কোর্টে মামলা করে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা নিয়েছেন। তারাই আবার আদালতের আদেশ ভঙ্গ করেছেন। তারা আইন তৈরি করেন, আইনের লঙ্ঘন করেন। এ ব্যাপারে আমরা আর কী বলবো?’

Print Friendly, PDF & Email

ThemesBazar.Com

      আরো পড়ুন