উন্নয়নের বার্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজশাহী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়নের বার্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজশাহী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৮ 0 By admin
Spread the love

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাজশাহী সফরে আসছেন। সফরকালে এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।

২২ ফেব্রুয়ারি,  বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী সফরসূচির শুরুতেই বেলা সাড়ে ১১টায় নাটোরের কাদিরাবাদ সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান-২০১৮ তে যোগদান করবেন। এরপর বিকেল ৩টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক সরকারি হাই মাদ্রাসা ময়দানে জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি ওই মাঠে ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী আগমন উপলক্ষে  ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে সাজিয়ে তোলা হয়েছে পুরো নগরী। সড়কগুলোতে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য তোরণ, চোখে পড়ছে রঙ-বেরঙের ব্যানার আর ফেস্টুন। রয়েছে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা। আর এসব আয়োজনই জানান দিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বরণের জন্য প্রস্তুত রাজশাহী।

প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর সফল করার জন্য আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দুই দফা রাজশাহী সফর করেছেন। গত চারদিন থেকে রাজশাহীতে অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক, রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

জনসভাস্থলে মঞ্চ নির্মাণসহ মাঠ প্রস্তুতে সকল ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন

এদিকে জনসভার জন্য মাঠ প্রস্তুতের কাজও এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে মাইক। আশপাশে বসেছে সিসি ক্যামেরা। মাঠের ইট-সিমেন্টের স্থায়ী মঞ্চের সামনে কাঠ বসিয়ে সেটিকে দেওয়া হয়েছে নৌকার আদল। রঙিন কালিতে মাঠের চারপাশে শোভা পাচ্ছে দেয়াল লিখন। কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে এসব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ময়দান পরিদর্শন করেছেন। তারা প্রস্তুতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রিয়.কমকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ জন্য আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে রাজশাহীতে বরণ করে নেওয়া এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। আশা করছি, জনসভা সফল হবে। নামবে জনতার ঢল। পরিণত হবে জনসমুদ্রে। প্রধানমন্ত্রী আগামী জাতীয় সংসদ এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেবেন।’

প্রিয়.কমের সঙ্গে কথা হয় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের। তিনি বলেন, ‘এই জনসভার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্য আরও সুদৃঢ় করবে। এ জনসভার মাধ্যমেই আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতিও আমরা সম্পন্ন করছি। এ জনসভায় পাঁচ লাখের অধিক জনসমাগম হবে। যে যার অবস্থান থেকে দলের নেতাকর্মীরা ছাড়াও, আওয়ামী লীগ সরকারের উপকার ভোগী সব পর্যায়ের মানুষ এ জনসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী ভাষণ শোনার জন্য।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘রাজশাহীতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও দুইটি স্কুল সরকারি করা ছাড়াও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, প্রস্তাবিত চামড়া শিল্প নগরী স্থাপন, বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতসহ ৯টি উন্নয়ন ভাবনা রাজশাহী আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। আমরা আশা করছি রাজশাহীবাসীর এসব প্রাণের দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেবেন।’

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের সমাগম ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করা হবে। মাদ্রাসা মাঠ ছাড়াও আশপাশের এলাকাতেও জনসভায় আগতদের অবস্থান করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনসভা ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ এগিয়ে চলেছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর ঘিরে আগ্রহের কমতি নেই জনসাধারণের মধ্যেও। জনসভার গণসংযোগ করতে গিয়ে তার উপলদ্ধি করা যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর সফর ও নিরপত্তা নিয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানান, বৃহস্পবিার দুপুর ২টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক সরকারি হাই মাদ্রাসা ময়দানে এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। জনসভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জনসাধারণ অংশগ্রহণ করবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চলাচলে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং জনসভায় গমনাগমনে শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী ও নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক দিয়ে জনসভা অভিমুখী গাড়িসমূহ সিটি বাইপাস হয়ে তেরখাদিয়া স্টেডিয়াম এলাকায় পার্কিং হবে। নাটোর – রাজশাহী মহাসড়ক দিয়ে জনসভায় আগত গাড়িসমূহ ঢাকা বাস টার্মিনাল হয়ে সাগরপাড়া বটতলা এলাকায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে  স্টিকারযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ গাড়িগুলো জনসভাসংলগ্ন মাঠে (উত্তরা কমিউনিটি সেন্টার মাঠ ও টিচার্স ট্রেনিং কলেজ মাঠ) পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে নগরীর গুরুতপূর্ণ এলাকাসমূহ যানজটমুক্ত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভেন্যুতে যাওয়ার আধা ঘণ্টা পূর্ব হতে ভেন্যুতে চলাচলের রুটটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত রাখা হবে। এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

২০১১ সালের পর আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা রাজশাহী নগরীতে জনসভায় যোগ দিচ্ছেন। তবে ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর বাগমারা এবং ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চারঘাটে আওয়ামী লীগের জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। সর্বশেষ গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর পবায় দলীয় জনসভায় উপস্থিত হয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

এই সম্পর্কীও খবর

Recent Posts