৯ মাসে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৪১৩ : আসক

বাংলাদেশে গত ৯ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৪১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। এর মধ্যে গত ৪ মে থেকে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর মো. একরামুল হকসহ নিহত হয়েছেন ২৬০ জন। গতকাল এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায় মানবাধিকার সংগঠনটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৯ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ও বন্দুকযুদ্ধে ৪১৩ জন মারা গেছেন। ১৫ মে থেকে মাদক নির্মূল অভিযানে হার্ডলাইনে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মারা যান ২৬০ জন। এর মধ্যে র্যাবের সঙ্গে ‘ক্রসফায়ারে’ ১২২ জন, পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৮৪ জন, ডিবি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৪৪ জন, নৌপুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন, র্যাব ও বিজিবির সঙ্গে ‘ক্রসফায়ারে’ তিনজন, পুলিশের নির্যাতনে তিনজন, ডিবি পুলিশের নির্যাতনে দুজন, পুলিশের গুলিতে চারজন, ডিবি পুলিশের গুলিতে তিনজন, আনসারের গুলিতে একজন মারা যান বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, থানা হাজতে আত্মহত্যা করেছেন তিনজন। গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ৩৩ জনের। পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হয়ে তিনজন, র্যাবের হেফাজতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন মারা গেছেন আরও দুজন।

আসক জানায়, পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা ২১ জনকে আটক করে। এর মধ্যে দুজন ফেরত এসেছে। ১০ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো আটকের এসব অভিযোগ প্রথমে অস্বীকার করে।

আসকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিটি ব্যক্তির বেঁচে থাকার এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনা মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। গত ২৬ মে টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর মো. একরামুল হক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। ৩১ মে তার পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ করে, যা এ ধরনের হত্যাকা-ের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে আরও বিতর্কের সৃষ্টি করে বলে জানায় আসক।

উৎসঃ   আমাদের সময়
শর্টলিংকঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *