সারা দেশেই সতর্কতা, ঢাকায় কড়া নিরাপত্তা

১৪ বছর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে করা দুই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ বুধবার। ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত বিশেষ আদালতে হাজির করা হবে কারাগারে থাকা ৩১ আসামি। এ রায়কে ঘিরে এরই মধ্যে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে পুলিশ ও র‌্যাবের টহল, তল্লাশি চৌকি ও অবস্থান বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রায়কে ঘিরে সারা দেশেই সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। কেউ যাতে কোনো প্রকার গোলযোগ সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য র‌্যাব ও পুলিশ প্রশাসন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে রেলপথ, নৌপথ ও সড়কপথে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, রায়কে ঘিরে কোনো নিরাপত্তার হুমকির আগাম তথ্য নেই। তবে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকায় পুলিশের চার স্তরের নিরাপত্তাবলয় থাকছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, জনগণ অধীর আগ্রহে আছে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের রায়ের জন্য। এই রায়ের মাধ্যমে ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান হবে। জাতি এই রায়ের মাধ্যমে কলঙ্কমুক্ত হবে। এটা নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিরও কোনো আশঙ্কা নেই। তার পরও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে ডিএমপির কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, এই রায়কে কেন্দ্র করে সহিংসতার চেষ্টা করা হলে কঠোরভাবে তা দমন করা হবে।

ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, ‘আমরা কোনো পলিটিক্স করি না। কিন্তু জনগণের জানমাল রক্ষা করা আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব।’

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানও এই মামলার আসামি। এ কারণে বিএনপি বা তার অঙ্গসংগঠনের কেউ যাতে কোথায়ও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাতে না পারে সে বিষয়ে নজর রাখতে ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পল্টন ও গুলশানে যেখানে বিএনপির কার্যালয় রয়েছে, সেখানে বিশেষ নজরদারি থাকবে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের।

র‌্যাব সদর দপ্তর সূত্র জানায়, এ ব্যাপারে ঢাকার ব্যাটালিয়নগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র জানায়, আজ জাতীয় প্রেস ক্লাব, হাইকোর্ট, পুরান ঢাকার আদালত এলাকা, শাহবাগ, বাংলামোটর, ফার্মগেট, পল্টন, জিরো পয়েন্ট, মগবাজার, মালিবাগ, আজিমপুর মোড়সহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সব

পয়েন্টে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে র‌্যাব ও পুলিশের গোয়েন্দাদের একাধিক দল সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকবে। আদালত এলাকাসহ কয়েকটি এলাকায় বসানো হবে তল্লাশি চৌকি। বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) ও ফায়ার সার্ভিসকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গতকাল সকাল থেকেই পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দীন সড়কের বিশেষ আদালত ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। দুপুর থেকেই সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাড়ানো হয়েছে টহল।

ডিএমপির উপকমিশনার (ডিসি-প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করারর জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

,
শর্টলিংকঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *