সরকারের স্বাস্থ্য সেবায় অগ্রজ ভুমিকা রাখছেন অধ্যাপক ডা: এম এ মান্নান ।

অধ্যাপক ডা.এম.এ. মান্নান, নির্বাহী পরিচালক, শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনষ্টিটিউট, মাতুয়াইল, ঢাকা, কে বলা হয় ‘স্বাস্থ্য সেবায় সরকারের দিন বদলের নায়ক’। কেনো বলা হয়, তা জেনে নেওয়ার ইচ্ছে বহুদিন থেকে। হাসপাতালের মূল ফটকে পা রাখতেই সেই প্রশ্নের উত্তর মিলতে শুরু। প্রধান সড়ক থেকে বেশ খানিকটা ভেতরে অবস্থিত হাসপাতালের ভবন। সামনের ফাঁকা মাঠে এক সময় ছিল ময়লা আবর্জনায় ছড়াছড়ি, সন্ধ্যার পরে বকুল তলায় চলতো অসামাজিক কার্যক্রম। নাক চেপে হাসপাতালে যেতে হতো। কিন্তু এখন সেখানে রূপ নিয়েছে ফুলের বাগান ফুলের সুবাস। এতে রোগী ও তার স্বজনরা বেশ খুশি।সরকারি হাসপাতালের কথা উঠলেই অনেকের মনে নেতিবাচক একটা ধারণা আসে। আবর্জনার ছড়াছড়ি, নাক চেপে চলাফেরা, দালাল-হকারের দৌরাত্ম্য ইত্যাদি যেন সরকারি হাসপাতালের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এমন পরিবেশের বাইরে ছিলো না এই হাসপাতালও। হাসপাতালটিতে ছিল দালালের দৌরাত্ম্য। আগন্তুক এলেই ঘিরে ধরতো দালালরা। বেড পাইয়ে দেওয়াসহ নানা রকম প্রলোভন দেখিয়ে বিভ্রান্ত করতো রোগীদের। কিন্তু সেসব এখন অতীত। তবে সরকারি হাসপাতালের এমন চিরচেনা জঞ্জালময় পরিবেশ থেকে বের হয়ে এসেছে শিশু –মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট। এই ধারনা বদলে দেয়ার অগ্রজ অধ্যাপক ডা.এম.এ. মান্নান যিনি মনে করেন, ‘পরিচ্ছন্ন পরিবেশ’ ও গুনগত সেবা দিয়ে আগত রোগীদের মধ্যে সরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে ধারণা পাল্টে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নাকে বাজে না হাসপাতালের উৎকট গন্ধও। পরিচ্ছন্নতায় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের চেয়ে পিছিয়ে নেই। সর্বত্রই যেনো পরিবর্তনের ছোঁয়া।
এ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাষ্যে, যে অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে, এর সবটাই সম্ভব হয়েছে দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে। আর এর পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে অধ্যাপক ডা.এম.এ. মান্নান । অধ্যাপক ডা.এম.এ. মান্নান ২০১৭ সালে নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানে সেবার মান ও পরিবেশ উন্নয়নে প্রাণাবন্ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। মানুষের আস্থা ফেরানোর লক্ষ্যে ‘মডেল হাসপাতালে’ পরিণত করার পরিকল্পনায় নিরলস কাজ করে চলেছেন । নির্বাহী পরিচালক জানান শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনষ্টিটিউট সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্থানীয় মাননীয় এমপি মহোদয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সুদৃষ্টি রয়েছে। যে কারণে উন্নয়নের কাজ চলমান, তাই বাড়ছে সেবার পরিধিও।’
অধ্যাপক ডা.এম.এ. মান্নান বলছিলেন, ‘হাসপাতাল সম্পর্কে মানুষ প্রত্যাশা করে- ভালো পরিবেশ, ভালো চিকিৎসা, ডাক্তার/নাসর্/কর্মকর্তা/কর্মচারীদের/ ভাল ব্যবহার, অপরিচ্ছন্ন থাকলে রোগীদের আগ্রহ কমে যায়, তাতে ধারণা হয় চিকিৎসা ভালো হবে না। এজন্য হাসপাতালে রোগীর সেবার মান উন্নত করতে প্রথম চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় বেসরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে মানুষের যে ধারণা, আমাদের হাসপাতালের পরিবেশও তেমনভাবে করে তোলা হয়েছে। হাসপাতাল ২৪ ঘণ্টা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। দিনে তিনবার, ক্ষেত্রবিশেষে ৫-৬ বারও পরিষ্কার করা হয়। এরইমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ৯০ ভাগ সফলতা অর্জন করেছি আমরা। অধ্যাপক ডা.এম.এ. মান্নান নেতৃত্বে এমন পরিবর্তনের বেশ ফল পাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সুফল ভোগ করছে রোগীরাও। আজকে একটি মহৎ পেশায় যুক্ত হতে পেরে গর্ববোধ করেন। তিনি বলেন, ‘এ পেশায় মানুষের হৃদয় স্পর্শ করা যায়। আর কোনো পেশায় এতোটা সম্ভব নয়।’
পেশায় চিকিৎসক হলেও অধ্যাপক ডা.এম.এ. মান্নান কে বহুমুখী প্রতিভাধর বলা হয়। রোগীকে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা পেশার উৎকর্ষতা সাধনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি। পেশাদার ডাক্তারদের শীর্ষ সংগঠন বিএমএ ও স্বাচিব এর বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, এখনও করে যাচ্ছেন। নিজেকে আজন্ম বঙ্গবন্ধুর সৈনিক পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। স্কুল জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি তার। বরিশাল শেরেবংলা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক, প্রো-ভিপি, ইনটার্নি চিকিৎসক পরিষদের প্রেসিডেন্ট সহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। যখন যেখানে থেকেছেন সেখান থেকেই লালিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন।

শর্টলিংকঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *