‘ভালো ছেলে’ ওসামাকে নিয়ে যা বললেন মা আলিয়া

আলিয়া

নির্বাণ নিউজ ডট কম ডেস্ক ●► প্রথমবারের মতো একটি পত্রিকাকে সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় ওসামা বিন লাদেনের মা আলিয়া ঘানেম ৯/১১ হামলায় তার ছেলের দায় অস্বীকার করেছেন।

ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আলিয়া ঘানেম আলকায়েদা নেতা ওসামাকে ‘খুব ভালো ছেলে’ বলে অভিহিত করেন। মাকে ওসামা ‘খুব ভালোবাসতেন’ বলেও জানান তিনি।

সৌদি আরবের রাজধানী জেদ্দায় ওসামার মা আলিয়া ঘানেমের বিলাসবহুল বাড়ি ওসামার বাঁধানো ছবি দিয়ে সাজানো। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্স সন্ত্রাসী হামলার ‘পরিকল্পনাকারী’ ওসামাকে গুলি করে হত্যা করে।

বিন লাদেনের পরিবার সৌদি আরবের অন্যতম ধনী পরিবারগুলোর একটি। কন্সট্রাকশন ব্যবসার সাথে জড়িত পরিবারটির কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সৌদি সরকার।

ওসামা তার পরিবারের নাম কালিমালিপ্ত করার পরও তার মায়ের বাড়িতে ওসামার অনেকগুলো ছবি রাখা। এগুলোর মধ্যে একটি ছবিতে মিলিটারি জ্যাকেট পরিহিত ওসামার ছবিও রয়েছে।

ঘানেম জানান, তার সবচেয়ে বড় ছেলে ওসামা তার ২০-২২ বছর বয়সে ‘লাজুক ও ধর্মভীরু’ ছিলেন।

ওসামা জেদ্দার কিং আবদুলাজিজ ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় চরমপন্থিরা ওসামার মগজধোলাই ধোলাই করে বলে অভিযোগ করেন তার মা।

গার্ডিয়ানকে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকজন ওকে বদলে দিয়েছিল। ও অন্যরকম মানুষ হয়ে গিয়েছিল।’

‘২০ বছর বয়স পেরিয়ে ও কয়েকজন মানুষের সংস্পর্শে আসে যারা ওর মগজ ধোলাই করেছিল। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত ও খুব ভালো ছেলে ছিল’ যোগ করেন ওসামার মা।

তিনি, ‘তারা তাদের আন্দোলনের জন্য টাকা নিতো। আমি ওকে সবসময় ওদের কাছ থেকে দূরে থাকতে বলতাম। কিন্তু ও কী করছে তা কখনো আমার কাছে স্বীকার করতো না, কারণ ও আমাকে খুব ভালোবাসতো।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়ার সময় ওসামা মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য আবদুল্লাহ আজ্জামের সাথে পরিচিত হন। পরে আজ্জামকে সৌদি আরব থেকে বের করে দেয়া হয়। তবে, আজ্জাম আলকায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনের আধ্যাত্মিক উপদেষ্টা হয়েই ছিলেন।

ঘানেম বলেন, তার কখনো মনে হয়নি তার ছেলে একজন জিহাদি হয়ে মানুষ হত্যা করতে পারে।

এমনকি, ওসামা যখন ১৯৮০-এর দশকে আফগানিস্তানে পালিয়ে গিয়ে সেখানে অনুপ্রবেশকারী রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে তখনো তার পরিবার তাকে নিয়ে গর্বিত ছিল।

ওসামার মা দাবি করেন, তিনি ১৯৯৯ সালে একটি আফগান সামরিক ঘাঁটিতে তাকে শেষবার দেখেন।

ঘানেম তার ঘরে বিশ্রাম নিতে যাওয়ার পর ওসামার সৎভাই আহমেদ গার্ডিয়ানকে বলেন, ওসামা কোনো অপরাধ করেছে এমন দাবি তার মা এখনো ‘প্রত্যাখ্যান’ করেন।

‘এর বদলে তিনি ওসামার আশেপাশের মানুষগুলোকে দোষারোপ করেন। উনি শুধু তাকে ভালো ছেলে হিসেবেই জানেন, যেমনটি আমরা সবাই দেখেছি। উনি তার জিহাদি দিকটির কথা জানতেন না’ বলেন আহমেদ।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে একযোগে বিমান হামলার ‘৪৮ ঘণ্টার’ মধ্যে তার পরিবার জানতে পারে ওই হামলার জন্য ওসামা ও তার দল দায়ী। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের ওই হামলায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হন।

‘পরিবারের সবচেয়ে ছোট থেকে একদম বয়োজ্যেষ্ঠ পর্যন্ত আমরা সবাই তার জন্য লজ্জিত বোধ করেছিলাম’ যোগ করেন আহমেদ।

এরপর, ওই ‘কুখ্যাত চরমপন্থি’র আত্মীয়দের ‘নিয়ন্ত্রণ’ করতে লাদেন পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

তবে ওই সন্ত্রাসী হামলার প্রায় দুই দশক পর বিন লাদেন পরিবার এখন রক্ষণশীল দেশটির বাইরে অবাধে যাতায়াত করতে পারে।

শর্টলিংকঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *