ব্যতিক্রমী ডিসকাউন্টে ১০৯ বছরের বৃদ্ধাকে খাবারের সঙ্গে দিতে হলো টাকাও

হেলেন সেলফের বয়স যখন ১০০ হয় তখন তিনি হার্লে ডেভিডসন বাইকে চড়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তার বয়স যখন ১০৮ হয় তখন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানার সবচেয়ে দীর্ঘজীবী দু’জনের একজন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

কয়েক সপ্তাহ আগে হেলেনের যখন ১০৯ বছরে পা দেন তখন জন্মদিন উপলক্ষে হেলেনকে খাবারের দামে অসাধারণ এক ডিসকাউন্ট দেয় একটি রেস্তোরাঁ।

প্রতি বছর বয়সের জন্য খাবারের দামে ১% ডিসকাউন্ট উপলক্ষে হেলেনকে ১০৯% ডিসকাউন্ট দেয় রেস্তোরাঁটি। ফলে খাবারের দাম তো তারা নেয়ইনি, বরং হেলেনকেই উল্টো খাবারের দামের ৯% টাকা দিয়েছে রেস্তোরাঁটি।

রেস্তোরাঁর মালিক নিক আলনজো নিজে উপস্থিত থেকে হেলেনকে ওই টাকা বুঝিয়ে দেন। এর বদলে হেলেন আলনজোর গালে একটা চুমু খান বলে জানায় মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট।

‘আগামী বছর আমি আবার এখানে আসবো’ মেয়ে শার্লি গুন্টারকে (৮৬) বলেন হেলেন। ‘ওর বউকে বোল না আমি ওকে চুমু খেয়েছি’ রসিকতায়ও কম যান না এই বয়সেও।

জন্মদিন উপলক্ষে দ্য মন্টানা ক্লাব রেস্তোরাঁর ডিস্কাউন্ট কিংবদন্তি হয়ে আছে বলে জানায় পোস্ট। এর স্টেক ও সামুদ্রিক খাবারের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই সেখানে একজন বা দুইজন ক্রেতাকে জন্মদিন উপলক্ষে ডিসকাউন্ট নিতে দেখা যায়।

হেলেন তার ৯৯তম জন্মদিন থেকেই মন্টানা ক্লাবে যাচ্ছেন। ১০০তম জন্মদিনে তিনি খাবারের দামে পুরো ডিস্কাউন্ট পান।

ওই সময় আলনজো হাসতে হাসতে তাকে বলেছিলেন, ‘আগামী বছর থেকে খেতে এলে তোমাকে আমার টাকা দিতে হবে।’

এরপর থেকে প্রতিবছর ঠিক এটাই হয়েছে।

আগস্ট মাসের ১৭ তারিখে হেলেনের ১০৯ বছর বয়স পূর্ণ হলে হেলেন তার প্রতিশ্রুতি রাখেন। ওইদিন তিনি রেস্তোরাঁর জানালার কাছে একটি টেবিলে তার পরিবারের ২০ জন সদস্যকে নিয়ে খেতে বসেন।

হেলেনের স্বামী ১৮ বছর আগে মারা গেছেন। তিনি দুই সন্তানের জননী কিন্তু তার একটি সন্তান হেলেনের বয়স ১০০ বছর হওয়ার আগেই মারা যান। তার ছয় নাতি-পুতি রয়েছে। নাতিপুতির রয়েছে আরও ছয় ছেলেমেয়ে। সেই প্রপৌত্রদের রয়েছে চারটি ছেলেমেয়ে। এবং এমাসেই হেলেনের আরেকটি প্রপ্রপৌত্র জন্মানোর কথা রয়েছে।

হেলেনের মেয়ে গুন্টার বলেন, তার মায়ের ওজন ১১০ পাউন্ডই আছে। তার শরীরের অবস্থা খুব ভালো, শুধু কানে একটু কম শোনেন। মাঝেমধ্যে হুইল চেয়ার ব্যবহার করলেও হেলেন হাঁটার সময় কখনো লাঠি ব্যবহার করেন না, যাকে পাশে পান তাকেই ধরে থাকেন।

গুন্টার আরও বলেন, তার মা কোনো ওষুধ খান না। তার ডাক্তার বলেন, ‘উনি প্রতিবছর মাত্র একবার আমার সঙ্গে দেখা করে জানিয়ে জান যে তিনি বেঁচে আছেন।’

ফোনে ওয়াশিংটন পোস্টকে হেলেন বলেন, তার দীর্ঘ জীবনের রহস্য হচ্ছে তিনি কোনো কিছুতে অতিরিক্ত রিঅ্যাক্ট করেন না এবং কিছুটা আয়েশি মেজাজে জীবনের এগিয়ে চলা দেখে যান।

‘জীবন যেমন চলে তাকে তেমনভাবেই গ্রহণ করো। কোনো কিছুতে বেশি উত্তেজিত হয়ো না’ বলেন হেলেন।

শর্টলিংকঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *