বরিশাল-০৬ জাপাকে আওয়ামী লীগের না , বিএনপিতে অন্তর্দ্বন্দ্ব


ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) নির্বাচনী এলাকার পশ্চিমে ঝালকাঠী, পূর্ব ও দক্ষিণে পটুয়াখালী এবং উত্তরে বরিশাল সদর। এক পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনের ভোটার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ।

স্বাধীনতাপরবর্তী সংসদ নির্বাচনগুলোতে এ আসনে যে দলের কিংবা জোটের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, তার দল বা জোটই সরকার গঠন করেছে। এ কারণে এ আসনের প্রতি বিশেষ নজর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে শুরু হয়েছে টানাপড়েন। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে (জাপা-এরশাদ) এবার ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে বিএনপির একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় দলে চলমান অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব।

১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী আলহাজ সৈয়দ মাসুদ রেজার মৃত্যুর পর এ আসনে আওয়ামী লীগের আর কেউ এমপি নির্বাচিত হতে পারেননি। ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হন বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ মো. ইউনুস খান। তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে বিজয়ী হন তৎকালীন বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা) অধ্যক্ষ আ. রশিদ খান এবং ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপিতে আসেন নতুন মুখ। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাসুদ রেজাকে হারিয়ে বিজয়ী হন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল জেলা সহসভাপতি আবুল হোসেন খান।

জোটগত ভাবে আওয়ামীলীগ ছাড় দেয়ায় ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাপার মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে তার স্ত্রী দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নাছরিন জাহান রত্না আমিন নির্বাচিত হন। তবে গত সাড়ে ৯ বছরে নির্বাচনী এলাকা বাকেরগঞ্জে  তেমন কোনও উন্নয়নকাজ করতে পারেননি দলটির সাবেক ও বর্তমান  এমপি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান এমপি নাছরিন জাহান রত্না আমিন দলটির একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। তিনি বলেন, পার্টি মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচন করব।

এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা দলীয়ভাবে যেভাবে বারবার ছাড় দিয়ে  বঞ্চিত হচ্ছেন, সেভাবে উপজেলাবাসীও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ২০০১ সাল থেকে। বার বার ছাড় প্রদানে দলের নেতাকর্মীরাও হতাশ । আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের প্রত্যাশা এবার কোন ছাড় নয়, এবার তারা চায় দলীয় প্রার্থী।  দল থেকে যেন তাদের পছন্দসই প্রার্থীকে মনোনয় দেয়া হয়। দলের পছন্দ অনুযায়ী এখানে এগিয়ে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মল্লিক।  জনাব হাফিজ মল্লিক  এলাকায় একজন সৎ,  কর্মঠ , যোগ্য , কর্মঠ নিষ্ঠাবান নেতা হিসেবে জনমনে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছেন বলে  জানা যায়।

নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মল্লিক। কিন্তু মহাজোটের স্বার্থে জাপাকে আসনটি ছেড়ে দিতে হয়। তবে আগামী নির্বাচনে হাফিজ মল্লিক প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান নেতাকর্মীরা। হাফিজ মল্লিক বলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।

আওয়ামী লীগের অপর মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন প্রয়াত সাবেক এমপি সৈয়দ মাসুদ রেজার স্ত্রী আইরীন রেজা, বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুল আলম চুন্নু, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির সদস্য ড. মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুব্বর আমিনুল, বাকেরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া ও বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী মনজুরুল হক মঞ্জু।

অন্যদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে উপজেলা ও পৌরসভার প্রতিটি ইউনিট কমিটি গঠন সম্পন্ন করেছে বিএনপি। তবে এসব কমিটিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের স্থান না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আবুল হোসেন খানের বিরুদ্ধে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, সাবেক এমপি আবুল হোসেন খান-ই আমাদের প্রথম ও শেষ ভরসা। আর আবুল হোসেন খান বলেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে কি না তা এখনও নিশ্চিত না। চেয়ারপারসনকে জেলে রেখে দেশে কোনও নির্বাচন হবে না। আর দলীয় নেতাকর্মী ও জনগণ চাইলে আমি বিএনপির কাছে মনোনয়ন চাইব।

বিএনপির আরও কয়েকজন নেতা আগামী নির্বাচনে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেছেন। তারা হলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শহিদ হাসান, উপজেলা বিএনপি নেতা আবদুস শুকুর বাচ্চু নেগাবান, কেন্দ্রীয় যুবদলের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক লায়ন নুরুল ইসলাম খান মাসুদ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক কে এম কামরুজ্জামান নান্নু ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সদস্য গোলাম মাওলা শাহীন।

এছাড়া জাসদের (আম্বিয়া-প্রধান) কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ মহসিন, ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম এ আসনে প্রার্থী হবে বলে জানা গেছে।

শর্টলিংকঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *