বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নৌকায় থাকুন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন। রাজু আহম্মেদ


লেখক রাজু আহম্মেদ : বাংলা ভাষাভিত্তিক বাঙালী জাতি ও জাতীয়তা এবং বাঙালী জাতীয়তাবাদ ভিত্তিক স্বাধীন স্বতন্ত্র জাতি রাষ্ট্র চিন্তার দার্শনিক নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মুজিব যার নেতৃত্বে ১৯৭১ সনে এক ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে একটি স্বাধীন জাতি রাষ্ট্র হিসেবে তার লাল সবুজের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে প্রকাশ করেছে স্বাধীনতার মাথা উচু করে দাঁড়াবার।

সেই মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মুজিবের রক্ত ও রাজনৈতিক আদর্শের উত্তরাধিকার গণতন্ত্রের মানসকন্যা, বিশ্ব মানবতার অগ্রদূত, ডটার অব পিচ, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সংগ্রামী সভানেত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিভীষিকাময় ’৭৫ এর ১৫ আগষ্ট স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা সংঘটিত হওয়ার পরে এবং আওয়ামীলীগ নেতৃত্বের চরম ক্রান্তিলগ্নে ১৯৮১ সনে খুনী মোস্তাক-জিয়া, ফারুক-রশিদ ও জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসন, মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত রাজাকার গোলাম আজমের নেতৃত্বে জামায়াত ষড়যন্ত্র এবং এরশাদ সামরিক স্বৈরাচার এর বিরুদ্ধে সকল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র, মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিবেদিত প্রাণ, আপোষহীন জননেত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতির পঁচাগলা, পূতিগন্ধময়, পিচ্ছিল-পঙ্কিল পথ মাড়িয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সনে প্রথমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে বাঙালী জাতিকে আলোর পথে নিয়ে যাওয়ার শুভ সূচনা করেন।
দেশী ও বিদেশী ষড়যন্ত্রের দাপটে বিভীষিকাময় ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার যেখানে ২১ বছর নিরবে, নিভৃতে কেঁদেছে—–। খুনী মোস্তাক-জিয়া চক্রের ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের কারণে যেটি আদালতের আদেশে বাতিলের পর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কাজের শুভ সূচনা করলেন। জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকলেন ক্ষমতার ৫ বছর। তারপর ২০০১ সালের নির্বাচন; পরের ইতিহাস আপনারা সবাই জানেন।

২০০১ সালে ১লা অক্টোবরের নির্বাচন পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত ৪ দলীয় জোট কর্তৃক নির্বিচারে আওয়ামীলীগ নিধন, নির্যাতন, নারী ধর্ষণ, সংখ্যালঘু হত্যা ও নির্যাতন, পূর্ণিমা, স্মৃতিকনা বিশ্বাসদের গ্যাং রেপের স্বীকার হওয়ার ঘটনা, ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ইতিহাস, সবই জানেন। বিএনপি জামায়াত থেকে রেহাই পায়নি ক্ষেতের ফসল, গোয়ালের গরু, পুকুরের মাছ, বাগানের ফল, সবজি ক্ষেত। ১৯৭৫ সনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল এবং বিএনপি জামায়াত ও জঙ্গীবাদের দোসররা দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে আমাদের প্রিয় দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর মাধ্যমে গণতন্ত্রের শুভ সম্ভাবনাময় ধাপকে ধ্বংস করার জন্য ২০০৭ সালে ১১/১ জানুয়ারী তারিখে মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দিন এর নেতৃত্বে জরুরী অবস্থা ডেকে নিয়ে আসে। ফলে ২০০৭ সালে দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রথমে বিদেশে, পরে জেল খানায় এবং শেষ পর্যন্ত রাজনীতির অধিকার বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র হয়। অদম্য জননেত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তৃণমূলসহ সকল নেতাকর্মী এবং জনগণের অসীম সাহসিকতায় ১/১১ এর সকল ষড়যন্ত্রের মূলোৎপাটন করে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিন বদলের ইশতেহারের ঘোষনা ও কর্মসূচীর বদৌলতে বিপুল ভোটে বাংলাদেশের ২য় বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং মনযোগ দেন দেশ ও জনগণের সেবা ও ভাগ্য উন্নয়নে।

বহুল প্রতীক্ষীত বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করলেন। কলঙ্ক মুক্ত করলেন ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত এবং যুদ্ধাপরাধী রাজাকারের বিচার সংগঠিত করে। বিএনপি-জামায়াতের দোসর, জঙ্গীবাদেরও নির্মূল করলেন। সংবিধান সংশোধন করে বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান ৭২ এ ফিরে গেলেন এবং ২০১৪ সালে সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করলেন। আগুন সন্ত্রাসের নায়িকা বেগম খালেদার আগুন সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রন করলেন। শেখ হাসিনাকে হত্যা এবং আওয়ামীলীগকে নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য জামায়াত-বিএনপি জোট সরকারের ছত্র-ছায়ায় সংগঠিত ২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার বিচার কাজের আয়োজন করলেন।

আর তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক তলাবিহীন ঝুড়ি উপাধিতে ভূষিত বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের আধুনিক ডিজিটাল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে উন্নীত করলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন অনুন্নয়নশীল বাংলাদেশকে ধাপে ধাপে উন্নয়নশীল বাংলাদেশে উন্নীত করলেন। বাংলাদেশের স্থল ও সমুদ্রসীমার অধিকার বাস্তবায়ন করলেন। বাংলাদেশকে উন্নত দেশের মত মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পাঠিয়ে নতুন দিগন্তের সূচনা করলেন।

সুতরাং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াতে হবে। দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। সেই অঙ্গীকারে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। সে কারণে যেকোন অভ্যন্তরীন দ্বন্দ¦, বির্তক, সংঘাত-সংঘর্ষকে সর্বাত্মক বিবেচনায় নিয়ে আওয়ামীলীগের ঐক্য সংহত করা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সকল সভ্যদের অনিবার্য দায়িত্ব হয়ে পড়েছে।

অতএব ২০৪১ সাল এর উন্নত বাংলাদেশ বির্নিমাণের লক্ষ্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নৌকায় থাকুন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
জয় শেখ হাসিনা।

রাজু আহমেদ
৯০ এর গণ অভ্যুত্থানে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা।

শর্টলিংকঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *