প্রিন্সেস ডায়ানার ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী, নিলামে বোরকার নকশা

 অনির্বাণ নিউজ ডেস্ক ● ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্যারিসের এক সড়কে গাড়ি দুর্ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন ব্রিটিশ বধূ প্রিন্সেস ডায়ানা। গতকাল ছিল তার ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী।প্রিন্সেস ডায়ানার জন্ম ১৯৬১ সালের ১ জুলাই, স্পেন্সার পরিবারে। ১৯৭৫ সালে তাদের পরিবারকে আর্ল অব স্পেন্সার পদবিতে ভূষিত করা হয়।

প্রিন্সেস ডায়ানা। ছবি: সংগৃহীত

১৯৮১ সালে প্রিন্স উইলিয়াম চার্লসের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন প্রিন্সেস ডায়ানা। মাত্র ২০ বছর বয়সে রাজপরিবারের বধূ হয়ে অভিজাত পরিবারের নিয়ম-কানুন শেখেন তিনি।

সৌন্দর্য, স্টাইল ও মধুর স্বভাবের জন্যই শুধু নয়, বিশ্বমানবতার জন্য কাজ করেও বিশ্ববাসীর মনে জায়গা করে নেন প্রিন্সেস ডায়ানা। স্থল মাইন ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে প্রচারণাও চালান তিনি।

বিয়ের ১১ মাসের মাথায় ১৯৮২ সালের ২১ জুন জন্ম নেয় চার্লস ও ডায়ানার ভালোবাসার প্রথম সন্তান প্রিন্স উইলিয়াম আর্থার ফিলিপ লুইস। ১৯৮৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জন্ম নেয় তাদের দ্বিতীয় সন্তান প্রিন্স হেনরি চার্লস অ্যালবার্ট ডেভিড (প্রিন্স হ্যারি)।

১৯৯৭ সালের ৩০ অাগস্ট ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের একটি রাস্তায় গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হন প্রিন্সেস ডায়ানা ও তার বন্ধু মিসরীয় ব্যবসায়ী ডোডি আল-ফায়াদ। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান গাড়িচালক ও ডোডি আল-ফায়াদ। আহত হন ডায়ানা ও তাদের দেহরক্ষী। দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর ৩১ আগস্ট হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ডায়ানা।

ময়নাতদন্তে গাড়ির চালকের পেটে অস্বাভাবিক মাত্রার অ্যালকোহলের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। অনেকেরই ধারণা, মার্সিডিজ গাড়িটির চালক হেনরি পল ছিলেন গোয়েন্দা সংস্থার লোক। এমনকি ব্রিটিশ রাজপরিবারকেও অনেকে ডায়ানার মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন। প্রিন্স উইলিয়াম তখন মাত্র ১৫ বছর বয়সী কিশোর, আর হ্যারির বয়স ১৩।

এদিকে বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রিন্সেস ডায়ানার জন্য করা ‘বোরকা উইথ বো’ নকশা বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হবে জানা গেছে। যদিও রিজার্ভ আউট-ফিট হিসেবে মার্ক করা বোরকাটি প্রিন্সেস ডায়ানার পরা হয়নি।

জানা যায়, ১৯৮৬ সালে উপসাগরীয় অঞ্চলের এক মরুভূমিতে পিকনিকে অংশ নেন প্রিন্সেস ডায়ানা। তখন তার ভ্রমণের জন্য বোরকাটির নকশা করেছিলেন এলিজাবেথ এমানুয়েল।

প্রিন্সেস ডায়ানার জন্য করা বোরকার নকশা।
প্রিন্সেস ডায়ানার জন্য করা বোরকার নকশা। ছবি: সংগৃহীত

নিলামের উদ্যোক্তারা জানান, সফরের সময় প্রিন্সেস ডায়ানা পোশাকের ক্ষেত্রে স্থানীয় রীতি-নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক পরার চেষ্টা করেন, তবে গলা এবং মাথা অনাচ্ছাদিতই রাখতেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রিন্সেস ডায়ানা।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রিন্সেস ডায়ানা। ছবি: সংগৃহীত

গালফ ট্যুরের জন্য পোশাকের নকশা করার জন্য ডিজাইনার এলিজাবেথ এমানুয়েলকে ডায়ানার রাজকীয় সাহায্য-কর্মী অ্যানি বেক-উইথ-স্মিথ চিঠি লিখেছিলেন। নিলামে সেই চিঠিটিও স্থান পাবে।

পোশাকের নকশার নির্দেশনা দিয়ে প্রিন্সেস ডায়ানার রাজকীয় সাহায্য-কর্মী লিখেছিলেন: ‘সব দিকে মার্জিত পোশাক হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।’

প্রিন্সেস ডায়ানার পোশাক ও তার নকশা।
প্রিন্সেস ডায়ানার পোশাক ও তার জন্য করা নকশা। ছবি: সংগৃহীত

নিলামে প্রিন্সেস ডায়ানার অন্যান্য পোশাকের নকশা এবং কাপড়ের নমুনা প্রদর্শন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজাইনারের হাতে আঁকা নকশার পাঁচটি অরিজিনাল বা মূল পোশাক।

একটি নেভি এবং সাদা ডোরাকাটা কোট, সান্ধ্যকালীন পোশাক, সাদা সিল্ক ক্রেপে এমব্রয়ডারি করা ক্রিস্টাল বসানো আরেকটি সান্ধ্যকালীন পোশাকও থাকবে নিলামে। একজন সংগ্রাহকের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে এসব দ্রব্য বিক্রি করা হবে; যার মূল্য ধরা হয়েছে ২৩ হাজার পাউন্ড।

সন্তানদের সঙ্গে প্রিন্সেস ডায়ানা।
সন্তানদের সঙ্গে প্রিন্সেস ডায়ানা। ছবি: সংগৃহীত

এসব পোশাক এসেছে ডেভিড এবং এলিজাবেথ এমানুয়েলের ফ্যাশন হাউস থেকে। যেখানে প্রিন্সেস-ডায়ানার বিয়ের পোশাকেরও নকশা করা হয়েছিল।

প্রিন্সেস ডায়ানার বোরকার নকশা নিলামে!

ব্রিটিশ পুত্রবধূ প্রিন্সেস ডায়ানা যখন সৌদি আরবে ভ্রমণে যান তখন তার জন্য অনেক পোশাকের ডিজাইন করেছিল ডিজাইন হাউজ দি এমানুয়েল। তার সেই সফরের জন্য করা সকল পোশাকের নকশা এখন নিলামে তোলা হয়েছে। আর এর মাঝে বিশেষ আকর্ষন হচ্ছে একটি বোরকা যার নাম দেয়া হয়েছে ‘বোরকা উইথ বো’ ১৯৮৬ সালে প্রিন্সেস ডায়ানার উপসাগরীয় অঞ্চল ভ্রমণের জন্য নকশা করা এই বোরকা এই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নিলামে তোলা হবে। এই বোরকার সাথে অন্য পোশাকের নকশা ও কাপড়ের নমুনাও নিলামে তোলা হবে।

বোরকাটির বিষয়ে লেখা আছে: “প্রিন্সেস অব ওয়েলস, সৌদি আরব সফর, নভেম্বর, ১৯৮৬, রিজার্ভ আউট-ফিট’। যদিও রিজার্ভ আউট-ফিট হিসেবে মার্ক করা বোরকা প্রিন্সেস ডায়ানার পরা হয়নি।

এসব পোশাক এসেছে ডেভিড এবং এলিজাবেথ এমানুয়েল এর ফ্যাশন হাউজ থেকে যারা প্রিন্সেস-ডায়ানার বিয়ের পোশাকেরও নকশা করেছিলেন।

এক চিঠিতে গালফ ট্যুরের জন্য পোশাকের নকশার নির্দেশনা দিয়ে প্রিন্সেস ডায়ানার রাজকীয় সাহায্য-কর্মী লিখেছেন: ‘সব দিকে মার্জিত পোশাক হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়’।

ডিজাইনাররা একটি বিভাগের নাম দিয়েছেন “দি গালফ ট্যুর ১৯৮৬: দিবা ও সান্ধ্য-কালীন পোশাকের নকশা” শিরোনামে।

এর মধ্যে রয়েছে ডিজাইনারের হাতে আঁকা নকশার পাঁচটি অরিজিনাল বা মূল পোশাক।

একটি নেভি এবং সাদা ডোরাকাটা কোট, সান্ধ্য-কালীন পোশাক, সাদা সিল্ক ক্রেপে এমব্রয়ডারি করা ক্রিস্টাল বসানো আরেকটি সান্ধ্য-কালীন পোশাকও থাকবে নিলামে।

একজন সংগ্রাহকের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে এসব দ্রব্য বিক্রি করা হবে যার মূল্য ধরা হয়েছে ২৩ হাজার পাউন্ড।

ডিজাইনার এলিজাবেথ এমানুয়েলকে উদ্দেশ্য করে ডায়ানার রাজকীয় সাহায্য-কর্মী অ্যানি বেক-উইথ-স্মিথ গালফ ট্যুরের জন্য পোশাকের ডিজাইন করতে অনুরোধ তুলে ধরে যে চিঠি লিখেছিলেন তা-ও এই নিলামে স্থান পাবে।

সে সময় সবগুলো পোশাকেই যেন মার্জিত দেখায় সেই ব্যাপারটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল।

দি এমানুয়েলস থেকে ডিজাইন পছন্দ করছেন প্রিন্সেস ডায়ানা, এমন একটি ছবিও নিলামে বিক্রি করা হবে।

প্রিন্সেস ডায়ানা এবং প্রিন্স চার্লস ছয়দিনের সফরে উপসাগরীয় অঞ্চলে এবং সৌদি আরবে যান।

নিলামের উদ্যোক্তারা বলছেন, সফরের সময় প্রিন্সেস ডায়ানা পোশাকের ক্ষেত্রে স্থানীয় রীতি-নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক পরার চেষ্টা করেন, তবে গলা এবং মাথা অনাবৃত রাখেন তিনি।

সৌদি আরবের রিয়াদে, ১৯৮৬ সালে সেখানকার এক মরুভূমিতে পিকনিকে অংশ নেন প্রিন্সেস ডায়ানা

সান্ধ্য-কালীন ভোজসভায় লম্বা হাতাওয়ালা পোশাক পরে উপস্থিত হতে দেখা গেছে তাকে যেসব পোশাক ওই সফরের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল।

তথ্য ও ছবি: telegraph, dailymail.

, , , , , , ,
শর্টলিংকঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *