প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ চায় রাজীবের পরিবার

রাজীব

নিজস্ব প্রতিবেদক ●►

 রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুই বাসের রেষারেষিতে তিতুমীর কলেজের স্নাতকের ছাত্র রাজীব হোসেনের পরিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ চায়।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন থেকে এ আশা ব্যক্ত করেন। মানববন্ধনে রাজীবের দুই ভাই, ৩ খালা, খালু উপস্থিত ছিলেন।

রাজীবের ভাই মেহেদী হাসান বলেন, আমরা পড়াশোনা শেষ করে যেতাম ভাইয়ের সাথে গল্প করতে। বাবা-মা নেই কার সাথে গল্প করবো। কিন্তু এখন তো ভাইও নেই। ভাইয়ের সাথে গল্প করতে মন চায় কিন্তু তা আর পারছি না। আমাদের ভাই চলে গেছে কিন্তু আমরা চাই না সড়ক দুর্ঘটনায় আমার ভাইয়ের মত আর কোন রাজীব বাংলার বুক থেকে হারিয়ে যাক।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের ভাইয়ের জন্য কাঁদছি। কিন্তু এর ফল কিছু পাচ্ছি না। টাকার অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর হাইকোর্টের রায় কবে বাস্তবায়িত হবে জানি না। একবার রায় হয় আরেকবার আপিল। এভাবে কত বছর লাগবে তা আমরা জানি না।’ হত্যাকারীদের দ্রুত সাজা চায় সে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যেন তাদের সাক্ষাতের সুযোগ দেন সে অনুরোধ জানান তিনি।

রাজীবের মামা মো. জাহেদ বলেন, ‘তদন্তের নামে মামলাটি মাসের পর মাস চলে যাচ্ছে। এভাবে চলে হলে সারাজীবন লাগবে তদন্তে। আর এভাবে রাজীবের মত আরো অনেকে মারা যাবে।’ ঘাতক ওই দুই বাস চালকের ফাঁসির দাবি জানান তিনি।

রাজীবের খালা খাদিজা বেগম বলেন, ‘রাজীব এতিম ছেলে, অনেক কষ্ট করে সে পড়াশোনা করেছে। অনেকেই বলেছে রাজীবের হাত বাইরে ছিল। কিন্তু না, তার হাত বাইরে ছিল না।’ তিনি ওই দুই চালকের ফাঁসির দাবি জানান। একই সঙ্গে রাজীবের দুই ভাইকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করতে চান। আর সড়ক দুর্ঘটনা আইন কঠোর করার দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন রাজধানীর মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন (২১)। হাতটি বেরিয়েছিল সামান্য বাইরে। হঠাৎই পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে গা ঘেঁষে ওভারটেক করার সময় রাজীবের ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দু-তিনজন পথচারী দ্রুত তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও বিচ্ছিন্ন হাতটি রাজীবের শরীরে আর জুড়ে দিতে পারেননি। গত ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাজীব।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।