পটুয়াখালী*৩ একাধিক মনোয়ন প্রত্যাশী দু’ দলেই।

গলাচিপা (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসন আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত। সংসদ সদস্য হিসাবে সামরিক শাসন আমল ও ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন ছাড়া সবকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। বর্তমানে আওয়ামী দুর্গে কিছু ফাঁকফোকড়ের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতারা। প্রার্থী মনোনয়নে আওয়মী লীগ ভুল করলে বিএনপি যদি এলাকার ত্যাগী অথবা তরুন নেতাদের মনোনয়ন দেয় তাহলে এ ফাঁক গলে আওয়মী দুর্গ বেহাত হওয়ার আশংকা রয়েছে বলে মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবীন অনেক নেতা ও সমর্থকরা।

এ নিয়ে দু’উপজেলায় রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। দৌড় ঝাপ শুরু হয়ে গেছে তৃনমুল পর্যন্ত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সভা-সমাবেশসহ দলগুলোর বিভিন্ন দিবসকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী এলাকায় সরব রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির  এসকল সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দশমিনা গলাচিপা উপজেলায় জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনায়ন প্রত্যাশীরা পোষ্টার ও ফেষ্টুন টানিয়ে জনসাধারণকে জানান দিচ্ছেন।

আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন, সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি, ৯০ এর গন অদ্ভথ্যানের অন্যতম রূপকার সাবেক ছাত্রনেতা রাজু আহম্মেদ, কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও দশমিনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. শাখাওয়াত হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক কামরান শহীদ প্রিন্স মহাব্বত,পটুয়াখালী জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) কাজী আলমগীর, ঢাকা মহানগর দক্ষিন আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ ফোরকান মিঞা, এসএম শাহজাদা।  মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে সকলেই নিজেদের শক্ত অবস্থান দাবি করছেন। মনোনয়প্রত্যাশীরা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কার্যক্রম ও সফলতা প্রচার ও বিভন্ন আচার অনুষ্ঠানে যোগদান করে নিজেদের মনোনয়নের আশাবাদ ব্যাক্ত করে যাচ্ছেন।

অপর দিকে এ আসনে এখন পর্যন্ত বিএনপির সম্ভাব্যমনোনায়ন প্রত্যাশী তিনজনের নাম বেশ জোরেশোরে আলোচনা চলছে। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছে নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন, সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা। এই তিনজনই এলাকায় দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছেন। নেতাকর্মীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে নিজের দলীয় মনোনয়নের পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা করছেন তারা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার দিক থেকে এই দুই জনই এগিয়ে রয়েছে। হাসান মামুন ছাত্ররাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার পর বিএনপি’র রাজনীতিতে গত ৭ বছর যাবত তিনি সক্রিয় রয়েছেন। হাসান মামুন গলাচিপা ও দশমিনার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থানেও বেশ অবদান রাখায় একাদশ জাতীয় সংসদে এর প্রভাব রাখবে বলে দলের অনেক নেতা আশা করছেন। তবে শাহজাহান খান তৃনমুলে ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি (শাহজাহান খান) ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত মাঠেই আছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি কর্মী বান্ধব হিসেবে পরিচিত। বিএনপি যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিতে পারলে বিগত দিনের মত বিজিত হয়ে সন্তুুষ্ট হয়ে থাকতে হবে। জানতে চাইলে হাসান মামুন এ প্রতিবেদককে জানান, আমি এলাকার মানুষের ভাগ্য-উন্নয়নে কাজ করছি। দল থেকে আমাকে মনোনায়ন দেয়া হলে নির্বাচনে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো। বিএনপির মনোনয়ন বিষয়ে আলোচনার টেবিলে আরেক নাম শাহজাহান খান। তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এমপি হয়েছিলেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকবার বিএনপির টিকেটে নির্বাচন করলেও জিততে পারেননি কখনো। তিনিও মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। নিজে সব সময় এলাকায় থাকেন উল্লেখ করে সাবেক এই সাংসদ বলেন, এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশে সব সময়ই আছি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরেও আমি মাঠেই আছি। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে আ. বারেক মিয়া, জিয়াউর রহমানের আমলে বিএনপি থেকে আবদুল বাতেন তালুকদার, এরশাদের আমলে ১৯৮৬ সালে এ্যাড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, ৮৮ সালে ইয়াকুব আলী চৌধুরী, ৯১ সালে আওয়ামী লীগের আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন, ‘৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিতর্কিত নির্বাচনে বিএনপি’র শাহজাহান খান, একই বছরে সবদলের অংশগ্রহনে ফের নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন। এ সময়ে আওয়ামী লীগ তাকে বস্ত্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আবার আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে দলীয় টানাপোড়নে আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়েন। আওয়ামী লীগ দলের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেয় গোলাম মাওলা রনিকে। ওই নির্বাচনে গোলাম মাওলা রনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হন । ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে আবার আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন নির্বাচনে জয়লাভ করেন।

শর্টলিংকঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *