করেন ভিক্ষা, কেনেন ব্র্যান্ডের সিগারেট

রোজগারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এলাহি জীবনযাপন করেন ভিখারি রাজু। মোটা টাকা খরচ করে এক এক করে ৫ বোনের বিয়ে দিয়েছেন তিনি। নামি ব্র্যান্ডের সিগারেট ছাড়া আমেজ আসে না তার। এমনকি প্রতিবন্ধিতার অভিনয় করে এক রাজনীতিকের কাছ থেকে আদায় করেছেন চিকিৎসার খরচের নামে মোটা টাকা, সঙ্গে ৫০ শতক জমি! রাজধানী ঢাকায় এই ব্যক্তিকে বিকলাঙ্গ অবস্থায় দেখা যায় আবার কখনো ঘাড়ের ওপর পা তুলে দিয়ে কোনোক্রমে হামাগুড়ি দিয়ে চলতে দেখা যায়। করুণ মুখটা দেখে মুঠো মুঠো পয়সা দেন পথ চলতি মানুষ। তাতেই মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। নথি জাল করে ভারতের নাগরিকত্ব নিয়েছেন বলেও স্বীকার করেছেন রাজু। সঙ্গে আদায় করেছেন বিকলাঙ্গ ভাতা। বছরে অন্তত চারবার ভারতে যান শুধু ভাতা তুলতে। এ ছাড়া ভিক্ষা করতে আসেন মাসে বেশ কয়েকবার।

নিউ মার্কেটের ওভার ব্রিজের নিচে প্রবেশপথে সুস্থ-সবল এক লোক দাঁড়িয়ে। সামনের রাস্তার ওপর চাটাইয়ে শোয়া ৩-৪ বছরের এক শিশু। শরীরের তুলনায় মাথাটি চেপ্টা সাইজের। অনেকেই শিশুটিকে ভিক্ষা দিচ্ছে। এক পথচারীর প্রশ্ন- শিশুটির নাম কি? এমন প্রশ্ন করতেই ভয় পেয়ে গেলেন পাশের লোকটি। অনেকটা ভয়ে ভয়ে বললেন কুলসুম। ভিক্ষুক এবং পথচারীর কথার মাঝে কাছে এগিয়ে এলেন আরও কয়েকজন কৌতূহলী ভিক্ষুক। তারা জানালেন লোকটির নাম গফুর। এটি তার মেয়ে নয়। এই মেয়ের বাবার নাম আমদার বাঘা। বাড়ি বরিশাল। আমদার বাঘার তিন কন্যা। তিনজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিন শিশুকেই দৈনিক হিসেবে নির্দিষ্ট টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়। একদিনে কয় টাকা ভাড়া? এই প্রশ্নের উত্তরে গফুর জানালেন, এমনিতে একশ-দেড়শ টাকা। কিন্তু রমজান মাসে, শবেবরাতে, শবে কদরের দিন এবং প্রতি শুক্রবার এ পরিমাণ বেড়ে যায়। কুলসুমের বাবা পরিচয়দানকারী গফুরের ভিক্ষা আর্তি ‘মেয়ের টাইফয়েড জ্বরে এই অবস্থা, চিকিৎসার জন্য আল্লাহর ওয়াস্তে সাহায্য করুন।’

এ শিশুকে প্রদর্শন করে এভাবে উঠছে হাজার হাজার টাকা। কিন্তু অভাগী কুলসুমের চিকিৎসা আর হয় না। হয়তো তার জন্ম প্রদর্শনের জন্যই। জানা যায়, কুলসুমের বাবা আগে কাঠমিস্ত্রির জোগালির কাজ করত। বর্তমানে তা ছেড়ে দিয়েছেন। তিন প্রতিবন্ধী কন্যাই তার উপার্জনের উৎস। ঢাকাসহ সারা দেশে বাস করছে প্রচুর ভিক্ষুক, যারা স্বেচ্ছায় বা বাধ্য হয়ে বেছে নিয়েছে এই পেশা। কিছু বিবেকবর্জিত অপরাধী রয়েছে যারা গরিব পঙ্গু লোকজন সংগ্রহ করে মাফিয়া চক্রের কাছে সরবরাহ করে।

তারপর তারা ভিক্ষুকদের ব্যবহার করে প্রাপ্ত অর্থ আত্মসাৎ করে। সাধারণ মানুষ সওয়াবের খাতিরে বা সহানুভূতির কারণে ভিক্ষা দেয়। তারা তখন ভাবে না যে, তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধের সুযোগ নিয়ে কিছু অমানুষ কোটিপতি হচ্ছে যারা কখনো কখনো মাদক ব্যবসা ও চোরাচালানির সঙ্গেও জড়িত। প্রতি বছর অনেক শিশু অপহূত হয় বা হারিয়ে যায়, কিন্তু তারা হারিয়ে যায় কোথায়? তারা ভিক্ষা ব্যবসার কাজে নির্মমভাবে ব্যবহূত হয়। স্থানভেদে ও সময়ভেদে এ ভিক্ষাবৃত্তির চিত্রে ভেদাভেদ আছে। যেমন- সিজনাল ভিক্ষুক, সারা বছর এরা কোথায় যেন লুকিয়ে থাকে আর রমজান এলে মনে হয় কীভাবে যেন মাটি ফুঁড়ে হঠাৎ উদয় হয়। রোজার দিনে জিকির করে পঙ্গু ও অন্ধ ভিক্ষুক আসে শহরে। রোজা শেষ হলে দেশের বাড়ি ফিরে যায়। ঘুমন্ত শিশু কোলে অসহায় (ছদ্মবেশী) মা ভিক্ষুক, (অল্প টাকায় শিশু ভাড়া নিয়ে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ভিক্ষা করে)।

উৎসঃ   বিডি প্রতিদিন
, ,
শর্টলিংকঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *