অদ্ভুত সব ফ্যাশনের তথ্য!

অদ্ভুত সব ফ্যাশনের তথ্য!

আজকাল আমাদের জীবনযাত্রার সাথে ওতপ্রোতভাবে জরিয়ে আছে ফ্যাশন। জেনে না জেনে ইচ্ছা বা অনইচ্ছায় আমরা প্রায় প্রতিদিন ফ্যাশনের সাথে জরিয়ে থাকি। আর ফ্যাশনের প্রধান অনুষঙ্গ হচ্ছে পোশাক। মূলত মানুষ সাজের মাধ্যমে ও পোশাক তৈরি করে যখন তার শরীর ঢাকতে শিখে তখন থেকে ফ্যাশনের উৎপত্তি। অতিথে এমন কিছু ফ্যাশন ছিল যা এখন আমরা কল্পনাও করতে পারবো না। আবার এখন এমন অঙ্ক ফ্যাশন আছে যা আমরা খুশিমনে আল্ট্রামর্ডান সাজার জন্য করি অতিথে তা ছিল ঘৃণিত অপরাধের প্রতীক। আসুন আজ আমরা এমনই কিছু ফ্যাশন সম্পর্কে জেনে নেই যা আপনাকে অবাক করে দিবে।

১. গর্ভবতী হওয়াটা একটি ফ্যাশন ছিল! ১৫ শতকের দিকে, এমন কি গর্ভবতী নয় এমন মেয়েরাও তাদের জামার নিচে বালিশ লুকিয়ে রাখতো যাতে তাকে দেখতে গর্ভবতী মনে হয়। বর্তমান ফ্যাশনে এটা কী আপনি ভাবতে পারেন?

২. ছোট চুলের ফ্যাশন আজকাল খুব চলছে। এমনকি ছোট চুলের মেদের দেখলে তাকে সবাই খুব স্মার্ট আর ফ্যাশন প্রেমী ভাবেন। কিন্তু কয়েক দশক আগেও, যদি কোনো মহিলা ছোট চুল থাকতো, তবে তার অর্থ হচ্ছে তাকে অবিশ্বস্ত স্ত্রী বলে মনে করা হয়।

৩. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট তার সৈন্যদের জামার হাতায় বোতাম লাগানোর নির্দেশ দেন যাতে তারা তাদের নাকের পানি জামার হাতায় না মুছতে পারে।

৪. রাজার আদেশ মাথায় হ্যাট পরতেই হবে! অবাক হচ্ছেন, অবাক হওয়ার কিছুই নেই, রানী এলিজাবেথ হ্যাট প্রচুর পছন্দ করতেন তাই তিনি প্রতি রবিবার ও সরকারি ছুটির দিন ৭ বছরের উপরের সকল বালিকাদের উপর হ্যাট পরা বাধ্যতামূলক করেছিলেন। যারা অমান্য করতো তাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থাও ছিল।

৫. ১৮-১৯ শতকে মটর গাড়ি আবিষ্কার হওয়ার পর মেয়েদের স্কার্টের প্রচলন শুরু হয়। মটর গাড়িতে মহিলাদের প্রবেশের সুবিধার জন্য ঘাঘরার মতো বড় পোশাককে ছোট করে পরবর্তীতে স্কার্টের রুপ দেয়।

৬. ১৬ শতকের মধ্যে মেয়েদের জন্য ‘ক্রসেস্ট’ বা কোমর বন্ধনী চালু করা হয়েছিল, যেমন ‘স্প্যানিশ ফার্দিঙ্গেলস’ বা হুপ ক্রসেস্ট, দুটোই নারীদের দেহের গঠন আরো আকর্ষণীয় দেখাতো। রেনেসাঁ সময় থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যে সময় পর্যন্ত এই প্রচলন ছিল। তবে ১৭ শতকের শেষের দিকে রেনেসাঁ যুগ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে হুপচলের স্কার্ট ফ্যাশন থেকে মেয়েরা বেরিয়ে আসে।

৭. হাস্যকর হলেও সত্য যে, মাইকেল জর্দান এর বাবাকে যে ব্যাক্তি হত্যা করে তিনি একটি মাইকেল জর্ডান টি-শার্ট পরা ছিলেন।

৮. ১৮ শতকের দিকে হাই হিলের এতটাই ফ্যাশন ছিল যে তারা ছোট বাচ্চাদেরও এই হাই হিল পরাতেন।

৯. আমরা জানি মেয়েদের জন্য গোলাপী এবং ছেলেদের জন্য নীল রঙ বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে। তবে ১৯১৮ সালে ক্যাটালগে দেখা যায় যে মেয়েদের জন্য নীল রঙ। কারণ এটি অনেক বেশি সূক্ষ্ম এবং মন শান্ত রাখে এবং ছেলেদের জন্য গোলাপী, কারণ এটি শক্তিশালী এবং আরো উত্সাহী করার রঙ,

১০. ১৫ দশকের দিকে ফ্যাশন ডিজাইনাররা তাদের পোশাকগুলি ছোট পুতুলের গায়ে পরিয়ে দিত। ১৮৫৩ সাল পর্যন্ত মডেল হিসাবে এই মিনিয়েচারগুলোই ছিল। তারপর মেনিকুইন। এবং লাইভ মডেলের প্রথা চালু হয়।

১১. ‘লেকোস্টে’ ছিল প্রথম কোন গার্মেন্টসের পোশাকের একটি লোগো। তারপর এটি ফ্যাশন হাউজে পরিচিত পায়।

১২. ১৮৬০ এর মাঝামাঝি সময়ে, মেয়েদের গ্রাউনগুলো এত বিস্তৃত ছিল যে প্রায়ই তারা বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় দরজার মধ্যে আটকে যেত।

১৩. ১৮৫০ সালের আগে, ৭০ ভাগ নারীরা নিজেদের জন্য জামাকাপড় নিজেরাই তৈরি করতেন। আজ আমরা জাকে হ্যান্ডিক্রেফ বা হাতে তৈরি পোশাক বলি। এগুলো এখন যেমন মূল্যবান আগেও তেমই ছিল।

১৪. অবিশ্বাস হলেও সত্য যে, প্রথম ফ্যাশন ম্যাগাজিন বের হয়েছিল পুরুষদের জন্য যার নাম ছিল ‘লা মারকুয়ার গালান্ট’। এইটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৬৭৮ সালে। আর এটাই ফ্যাক্ট যে এর ১৬ বছর পর নারীদের ফ্যাশন ম্যাগাজিন বের হয় বিক্রয়ের জন্য।

তথ্য ও ছবি: luckybirdcashmere.com

শর্টলিংকঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *